মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞাপন:
>>> পায়রা মিডিয়া এন্ড কমিনিউকেশন (প্রা:) লিমিটেডে আপনাকে স্বাগতম ** আপনার পন্য এবং প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন: +৮৮ ০১৭১২২৭৬২৫৮ ** বার্তা সংক্রান্ত: ০১৭২১০০৯০১৭ ** নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: দৈনিক মানবকালে কিছু সংখ্যক স্টাফ রিপোর্টার, রিপোর্টার এবং নিউজ রুম এডিটর নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা অফিসে যোগাযোগ করুন **

জামায়াত নেতা আজহারুলের মৃত্যুদণ্ড বহাল

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৯, ২.২৫ অপরাহ্ণ
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদেস্যর আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি নুরুজ্জামান।

এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ ছয়টি অভিযোগ আনা হয়। ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। আর পাঁচ নম্বর অভিযোগে ২৫ বছর জেল ও ছয় নম্বর নির্যাতনের অভিযোগে পাঁচ বছরের সাজা দেয়া হয়। এছাড়া এক নম্বর অভিযোগ প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে কোনো দণ্ড দেয়া হয়নি বলে রায়ে উল্লেখ করেন ট্রাইব্যুনাল।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এসএম শাহজাহান, অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, মতিউর রহমান আকন্দ, তানভীর আহমেদ আল আমিন, শিশির মোহাম্মদ মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।

রায়ের পর এটিএম আজহারুল ইসলামের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে রায় বহাল রাখা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে বিস্তারিত বোঝা যাবে।

আজ আপিল বিভাগের রায়ে তাকে তিনটি অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের মতামতের ভিত্তিতে দণ্ড বহাল রাখেন। অপর একটি অভিযোগে ২৫ বছরের সাজা থেকে খালাস দেয়া হয়। আর নির্যাতনের অভিযোগে পাঁচ বছরের সাজা বহাল রাখা হয়।

আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সাজা বহাল থাকা আপিলের রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করা হবে।

গত ১৮ জুন আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ শুনানি শুরু হয়েছিল। ১ জুলাই থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। গত ১০ জুলাই প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের একই বেঞ্চ রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আজহারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আনা নয় ধরনের ছয়টি অপরাধের মধ্যে পাঁচটি এবং পরিকল্পনা-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) প্রমাণিত হয় রায়ে।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে ১ হাজার ২৫৬ ব্যক্তিকে গণহত্যা-হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক, নির্যাতন ও গুরুতর জখম এবং শতশত বাড়ি-ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো নয় ধরনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় এ টি এম আজহারের বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের মধ্যে ১ নম্বর বাদে বাকি পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয় ট্রাইব্যুনালের রায়ে। সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) অভিযোগ ছাড়াও তিনি যে আলবদর কমান্ডার ছিলেন তার প্রমাণ হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া ওই অঞ্চলের এক নারীকে রংপুর টাউন হলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্রে ধর্ষণের জন্য তুলে দেয়ার অভিযোগে তাকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপহরণ ও আটক রেখে নির্যাতনের আরেকটি ঘটনায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি খালাস চেয়ে আপিল করেন আজহারুল ইসলাম। সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন। ১১৩ যুক্তিতে আজহারকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তার দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন তুহিন। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিলসহ ২৩৪০ পৃষ্ঠার আপিল দাখিল করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আসা দশম আপিল আবেদন এটি। ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট এক আদেশে আপিল বিভাগ আসামিপক্ষকে আপিলের সার-সংক্ষেপ দাখিলের নির্দেশ দেন।

১৯৬৮ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে মেট্রিক পাস করে পরের বছর রংপুর কারামাইকেল কলেজে ভর্তি হন আজহার। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের জেলা কমিটির সভাপতি ও আলবদর বাহিনীর রংপুর শাখার কমান্ডার ছিলেন।

১৯৯১ সালে তিনি ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব পান এবং ২০০৫ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল হন। ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল আজহারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন সংস্থার কর্মকর্তা এস এম ইদ্রিস আলী। ওই বছরের ২২ আগস্ট মগবাজারের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ছয়টি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর আজহারের বিচার শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

Sharing

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazaranobkal5425
© All rights reserved © Payra Media & Communication (Pvt) Ltd
Theme Download From ThemesBazar.Com
shares