২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ।। ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রিপোর্টারের নাম :
  • আপডেট টাইম : ১ ডিসেম্বর- ২০১৯, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
  • 422 বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুর (মতলব উত্তর) প্রতিনিধি : চাঁদপুরের মতলব উত্তরে দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্প মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে এই মৌসুমে রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিভিন্ন বিলে ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষক-কৃষাণীরা এখন পুরোদমে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাছে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ধানের ন্যায্য মূল্য পেয়ে তাদের চোখে মুখে আনন্দ ও খুশির ঝিলিক।

এ মৌসুমে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে মোট ৭ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে বিআর-২২, ২৩, ২৪, ২৬, ব্রি-৩২, ৩৩, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪৫, ৪৬, ৪৯, ৫১, ৫২, ৬২, ৭৫, বিনা ও স্থানীয় জাতের ব্রি-৩৪, মুড়িশাইল ও কালীজিরা অন্যতম।

গত কয়েকদিন প্রকল্পের, আমিয়াপুর, মরাদোন, কালীপুর, টরকী, গাজীপুর এলাকার অন্তত ১০টি বিল ঘুরে দেখা গেছে, যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই কাঁচা পাকা ধান ধান। বেশির ভাগ জমিতেই ধান পাকতে শুরু করেছে। আগাম জাতের ধান পেকে যাওয়ায় কৃষকরা ধান কাটায় ব্যস্ত। উঠানে উঠানে কৃষাণীরা ধান মাড়াই ও খড় শুকানো কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছে। উঠানে ছড়িয়ে আছে মুঠোয় মুঠোয় সোনালি সোনা। ধান সিদ্ধ ও শুকিয়ে গোলা ভরায় ব্যস্ত কৃষক পরিবারগুলো। তাদের চোখে মুখে খেলে যাচ্ছে সোনালি ধানের সোনালি আভা। প্রতিটি গ্রাম এখন হেমন্তের ছোঁয়া। পাকা ধান হেমন্ত আরো রাঙিয়ে দিয়েছে।

এদিকে সেচ প্রকল্পে যেমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে অন্যদিকে বাজারে ধানের দামও বেশ চড়া। মোটা ধান প্রকার ভেদে ৮শ’ টাকা। চিকন ধান ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় কেনা বেচা হচ্ছে। কথা হয় পাঠানচক গ্রামের ধান ব্যবসায়ী জলিল মীরের সাথে। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ধানের দাম বেশ ভালো যাচ্ছে। ধানের দাম পেয়ে কৃষকরা বেশ খুশি। মোকামেও আমরা ধানের দাম বেশ ভালো পাচ্ছি।

ইসলামাবাদ গ্রামের খলিল প্রধান, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আরিফ সরকার, সাহাবাজকান্দি গ্রামের শাহআলমসহ কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের সাথে কথা হলে তারা জানান, ধানের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে দামও ভালো। আমরা খুশি। আবার গরুর খাবার কম থাকার কারণে ধানের খড়-বিচালী ভালো দামে কিনে নিয়ে যাচ্ছে সেচ প্রকল্পের বাইরের লোকজন।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, এবার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। সময়মত বৃষ্টি হওয়ায় পানি সমস্যা হয়নি। আবার উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমরা সবসময় মাঠ পর্যায়ে তদারকি ও পরামর্শের কারণে এবার রোপা আমন মৌসুমে রোগবালাই ছিল না। তিনি আরো জানান, ধান কাটা শুরু হয়েছে। বাজারে ধানের দামও বেশ ভালো। ফলে এই রোপা আমন মৌসুমে উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তার পূরণ হবে। তিনি এই জন্য ভালো বীজ ও ভালোমানের ধানের চারা রোপণ করাকে বাম্পার ফলনে সহায়ক বলে মনে করছেন।

Sharing

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
shares